জাহাজ রফতানির সুবর্ণ সুযোগ দেশের হাতে: নৌ প্রধান




জাহাজ রফতানির সুবর্ণ সুযোগ দেশের হাতে: নৌ প্রধান

নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ নৌবাহিনীপ্রধান ভাইস এডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব বলেছেন, জাহাজ রফতানিতে সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের হাতে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজ আমদানি করেছে। চীন থেকে বেশ কয়েকটি জাহাজ, দুটি হেলিকপ্টার ও এ অয়েল ট্যাংকারটি যুক্ত হওয়ায় নৌবাহিনীর জ্বালানি ও রসদ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড শ্লিপওয়েজে নির্মিত প্রথম ফ্লিট ট্যাংকারের (তেলবাহী জাহাজ) লঞ্চিং (ভাসানো) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।তিনি বলেন “নবনির্মিত এ জাহাজটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের। তেলবাহী ট্যাংকারটি সংযোজনের ফলে আমাদের বিশাল সমুদ্র এলাকায় টহলরত অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সমুদ্রে অবস্থানের সময়কাল ও সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।”তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববাজারে জাহাজ নির্মাণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ এখন আমাদের ধারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।”জাহাজটি আন্তর্জাতিক গুণগত ও মানসম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ ট্যাংকার নির্মাণের অবদান সম্পূর্ণভাবে শ্রমিকদের।”শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও তার গতি অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স) রিয়াল এডমিরাল এএমএম আওরঙ্গজেব চৌধুরী, আনন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ হেল বারী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ নাহিদ নিগার।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব. দি অর্ডিন্যান্স মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন, বিমান বাহিনীর সহকারী প্রধান (পরিচালক ও প্রশিক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার এবং সহকারী বিমান বাহিনীর প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মাজহারুল ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।নন্দ শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ হেল বারী তার বক্তব্যে বলেন, “৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ তেলবাহী ট্যাংকারটি সেনাবাহিনীর কাছে আগামী জুন মাসে হস্তান্তর করা হবে। এ জাহাজটি নির্মাণ ও সরবারাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প খাতে এ স্বর্ণ যুগের সূচনা হলো।”আনন্দ শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, তেলবাহী এ জাহাজটি চার হাজার হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে। জাহাজটি প্রায় ২৭০ ফুট লম্বা, প্রায় ২৫০০ টন তেল বহনের ক্ষমতা রাখে।