নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়




নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান
<<<<<<<< হাল আমলে নির্বাচনগুলো একের পর এক কালো অধ্যায় সৃষ্টি করছে। এগুলো পেশিশক্তির ও অধিকার হরণের অন্যতম দলিল যেন। এজন্য নির্বাচনগুলো ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে বলে সচেতন জনগোষ্ঠীর বদ্ধমূল ধারণা। ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী বাংলাদেশের একজন নাগরিক।সচেতন জনগোষ্ঠীর একজন হিসেবে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। সে সুবাধে তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য।ফটো সাংবাদিক হিসেবে দৈনিক জনতায় কর্মরত। ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী চলমান ইউপি নির্বাচনে অংশ নেন চাঁদপুর জেলার মতলব থেকে। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান। লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন।হামলা-মামলার ভয়ে সেখানে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে নেই। ফলে লাঙ্গল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ আছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য হেন চাপ নেই; যা ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকীকে দেয়া হয়নি। দেখানো হয় নানা রকম ভয়-ভীতি। জোরপূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করাতে পারে, সে আশঙ্কায় ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী গা-ঢাকা দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে নাকি ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকীর দীনদার বড় ভাইকে পুলিশ তুলে নেয়। অনেক দেন-দরবারের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর তাকে স্থানীয় ক্ষমতাসীনরা তুলে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ‘ভাইকে বাঁচাতে’ উপায় না দেখে ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান! ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী সরে দাঁড়ানোর পর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনগণের কথিত সেবক হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হয়। নির্বাচনের নামে পেশিশক্তির খেলার অপরিণামদর্শী কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় স্থানীয় সরকারে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি থাকার সুযোগ কমে যাচ্ছে। যেসব ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, সেসব নির্বাচন বাতিল করার যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন এ খাতের অভিজ্ঞ জনরা। সেখানে ভয়-ভীতিমুক্ত অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশের কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে কেউ কথিত জনপ্রতিনিধি সাজার সুযোগ পেত না। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতায় পেশিশক্তি আর অর্থ জনগণের ভোটাধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে বলে অনেকের অভিমত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য যা চরম লজ্জার। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকীর মতো ঘটনা বন্ধ হবে না। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা বন্ধ না হলে স্থানীয় সরকারে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি থাকবে না।এতে স্থানীয় সরকার দুর্বল থেকে দুর্বল হবে। সমাজের ঘৃণিত ও ধিকৃতরা এসব স্থানে বসে জনপ্রতিনিধির আসনকে কলঙ্কিত করবে। এ অভিমত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও প্রবীণ রাজনীতিকদের। [লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ই-মেইল: jalam_prodhan72@yahoo.com]