মাদরাসায় প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষক নিয়োগ সময়ের দাবি




মাদরাসায় প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষক নিয়োগ সময়ের দাবি

মাদরাসায় প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষক নিয়োগ সময়ের দাবি

জহির উদ্দিন হাওলাদার: মাদরাসায় প্রশাসনিক পদে জেনারেল শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই। প্রশাসনিক পদে প্রশাসনিক কর্মকান্ডে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন যে কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে কারন সহ-সুপার, সুপার, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ এই সকল প্রশাসনিক পদে কোন বিষয় বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। কিন্তু মাদরাসায় জনবল কাঠামোর নিয়োগ বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক পদে শুধু মাত্র আরবী বিষয়ের শিক্ষকগণ নিয়োগ দেওয়া যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১০ সালে জারীকৃত পরিপত্র মোতাবেক আলিম/ফাজিল মাদ্রাসায় কর্মরত প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক (সাধারণ/বিজ্ঞান) যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ/অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নিতে পারেন না। পরবর্তীতে ২০১২ সালে জারীকৃত পরিপত্রে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক(সাধারণ/বিজ্ঞান) কে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল যা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসাবে সুধী মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে জারীকৃত সংশোধিত পরিপত্রে উপাধ্যক্ষ/অধ্যক্ষ পদের জন্য প্রভাষক/সহঃ অধ্যাপক হিসাবে আরবী বিষয় সমূহে ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় যার মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ পদে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক (সাধারণ/বিজ্ঞান) কে নিয়োগের বিধান স্থগিত হয়ে যায়। এছাড়া স্কুল-কলেজের সাথে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু সুনির্দিষ্ট বৈষম্য জনবল কাঠামোতে বিদ্যমান যেমন-
১. স্নাতক (পাস) কলেজে বাংলা, ইংরেজি ও প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে প্রভাষক/সহঃ অধ্যাপক পদ সংখ্যা ২টি করে। অথচ সমমানের প্রতিষ্ঠান ফাজিল (পাস) মাদ্রাসায় বাংলা, ইংরেজি ও ঐচ্ছিক বিষয় সমূহের প্রতি বিষয়ে প্রভাষক/ সহকারী অধ্যাপক পদ সংখ্যা ১টি করে।
২. উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে বিজ্ঞান বিষয়ে প্রদর্শক নিয়োগ করা যায় অথচ সমমানের প্রতিষ্ঠান আলিম মাদ্রাসায় প্রদর্শক নিয়োগ করা যায় না।
৩. উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে এম,এল,এস,এস পদ সংখ্যা ৪টি কিন্তু আলিম মাদ্রাসায় এম,এল,এস,এস পদ সংখ্যা ২টি।
৪. স্নাতক (পাস) কলেজে এম,এল,এস,এস পদ সংখ্যা ৯টি কিন্তু সমমানের প্রতিষ্ঠান ফাজিল (পাস) মাদ্রাসায় এম,এল,এস,এস পদ সংখ্যা ৪টি।
৫. প্রতিটি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ/স্নাতক (পাস) কলেজে বিজ্ঞান ভবন আছে কিন্তু সমমানের প্রতিষ্ঠান আলিম/ফাজিল (পাস) মাদ্রাসায় বিজ্ঞান ভবন নেই। দু-একটি পুরাতন মাদ্রাসায় বিজ্ঞান ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ব্যবহারিক ক্লাসের যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত রাসায়নিক দ্রব্য সামগ্রী নেই।

বর্তমানে সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও হাইস্কুলকে জাতীয় করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই ঘোষনায় মাদরাসা জাতীয়করণের কোন দিক নির্দেশনা নেই। আমরা মনে করি আনুপাতিক হারে এমপিওভূক্ত বেসরকারী মাদ্রাসাকেও জাতীয়করণ করা প্রয়োজন।

এটি বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। এই সব বৈষম্য দুরীকরণ করার মাধ্যমে এবং জেনারেল শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন/পদায়নের মাধ্যমে মাদরাসাগুলোতে অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

জহির উদ্দিন হাওলাদার
মহা সচিব
বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন
মোবাইল: ০১৭৫৪-৭৬৩০৪০