শৈশবের ঈদগুলোই ছিল শ্রেষ্ঠ




শৈশবের ঈদগুলোই ছিল শ্রেষ্ঠ

সাদেকা হালিম
——-
আমার শৈশবের ঈদগুলোই ছিল শ্রেষ্ঠ ঈদ। কেননা তখন আমার বাবা বেঁচেছিলেন। এখন আমার বাবা বেঁচে নেই। বেঁচে নেই দাদা-দাদি, নানা-নানীর কেউ। তারা যখন বেঁচে ছিলেন, সে সময় আমরা যে আদর-আহলাদ পেয়েছি, তা স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো। তাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা অকল্পনীয়। আমরা অবশ্যই প্রতিযোগিতা করেছি, ঈদে আমাদের কার কয়টা জামা থাকবে ইত্যাদি নিয়ে। আমরা খুবই সাধারণ একটা জিনিসের মধ্যেও তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছি। এখন মনে হয়, ঈদ আসে আর যায়। কিন্তু এখনকার ঈদবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখন আমরা দেখি, কোরবানির ঈদে না হলেও রোজার বা ঈদ-উল-ফিতরে পাখি ড্রেস পড়ছি, শাড়ি পড়ছি, লেহেঙ্গা পড়ছি।

আগে ঈদের পোশাক-আশাকে আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির বিষয়গুলো অনেক গুরুত্ব পেত। সেখানে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে, ঈদ-উল-আযহায় আমি কত টাকায় গরু কিনলাম, পাশের বাসার লোকটা কত টাকার গরু কিনল, ওমুক-তমুকে কত টাকার গরু কিনল এসব। এটা এখন একটা গল্পের মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে এসব ছিল না। যারা হতদরিদ্র গরিব মানুষ তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আগেকার দিনে মানুষ ঈদের আনন্দ করত। এখন সেটার কমতি রয়েছে। দরিদ্রকে সঙ্গে নয়, নিজে নিজেই ঈদ করছি। অপরকে দেখানোর জন্যও বড় গরুটি কিনছি! ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে ঈদগুলো পালন করা উচিত। আমি এবারের ‘ঈদ-উল-আযহা’ পরিবারের সঙ্গে ঢাকাতেই করব।

পরিচিতি: সমাজবিজ্ঞানী