কাঁদছে হাওর তবু রূপে ভরপুর




কাঁদছে হাওর তবু রূপে ভরপুর

বুকভরা জল নিয়ে কাঁদছে হাওর। কাঁদছে সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া হাওরের লাখো মানুষ। এখন বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে প্রহর গুণছেন তারা। হাওরের জল আর এসব দুস্থ মানুষের চোখের লোনা জল মিলেমিশে একাকার। যে বেলায় গোলায় ধান ভরার কথা, সে বেলায় অশ্রুতে বুক ভাসাচ্ছে হাওরবাসী।

haor

এত কান্না, এত দুঃখ! তবুও যেন হাওরের রূপ ধরে না। সুন্দরী রমনীর অশ্রুসিক্ত নয়নে যে আবেগ, রূপ প্রকাশ পায়, তাই মিলছে এখন হাওরে। যেন নির্মল, স্নিগ্ধতায় ভরা কোনো গ্রাম্য বালিকা রূপের ডানা মেলে ধরেছে হাওরপাড়ে।

haor

উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের হাওরগুলো এখন পানিতে টইটুম্বর। অবেলায় পানি ভরে হাওরের হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। হাওরের সম্পদ মাছও মরছে বিষক্রিয়ায়। দিশেহারা হাওরবাসী। যে ত্রাণ ও সহায়তা মিলছে, তা একেবারেই অপ্রতুল, অভিযোগ হাওরবাসীর।

haor

অকালে হাওরের পানি দুঃখ বাড়িয়েছে বটে, তবুও রূপের পসরাও বসিয়েছে সেথায়। প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এখন সুনামগঞ্জ, সিলেট এলাকার হাওরগুলোয়। কানায় কানায় ভরে যাওয়া হাওরগুলো পানিতে থৈথৈ করছে। বৃষ্টিও হচ্ছে ঘনঘন। বৃষ্টিবেলায় হাওরের জলরাশি নেচে নেচে খেলা করছে। আবার বৃষ্টি ফুরালে পরিষ্কার আকাশ অসীম হাওরের কোলজুড়ে নেমে পড়ছে। তাতে মেঘের খেলাও থেমে থাকছে না। পরিষ্কার আকাশে সাদা মেঘের ভেলাকে যেন এপার থেকে ওপারে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

haor

হাওরের জলে খানিক হাওয়াতেই ঢেউ ওঠে। ঢেউয়ের তালে মনও দোলে। বালিহাঁস, পানকৌড়ি আর অতিথি পাখিরা সে ঢেউয়ে শরীর দোলায়। মন দোলায় মাঝিরাও। সীমাহীন হাওরের দূর দেশ থেকে ভেসে আসা নৌকাগুলো প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। জেলেদের মাছধরার নৌকাগুলো যেন একেকটি হাওরের পাহারাদার।

haor

বিকেলের হাওর! যেন সরূপের হাতছানি। হাওরের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা খাল (নদী সদৃশ) দিয়ে যখন নৌকাটি নিরন্তর ছুটে যাচ্ছিল, তখন প্রকৃতি তার রূপের দুয়ার যেন উদাম করে দিল। দ্বীপের ন্যয় ছোট ছোট গ্রাম। বসন্তের দিনগুলো প্রতিমুহূর্তে প্রকৃতির রূপ সাজানোয় যে ব্যস্ত ছিল, তা বৈশাখের মধ্যবেলায় প্রমাণ মিলল।

haor

ঘনসবুজে চোখ রেখে অন্যত্র আর তাকাতে মন চাইছিল না। গ্রামের কোল ঘেঁষে খানিক গিয়ে আবারও হাওরের বুক চিড়ে যখন অন্য হাওরে মিলছিল নৌকাটি, তখন পেছনে ফেলে আসা প্রকৃতি যেন তার পবিত্র ভালোবাসায় আগলে রাখতে চাইল।