ঢাকায় থাকার জায়গা চান জাতীয় কবির নাতনি




ঢাকায় থাকার জায়গা চান জাতীয় কবির নাতনি

স্টার বাংলা নিউজ: বাংলাদেশে থাকার জন্য এক টুকরো জায়গা চেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধর পরিবার। অনিরুদ্ধর ছোট মেয়ে অনিন্দিতা কাজী এ কথা বলেছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গত বছর একটি লিখিত আবেদনও করেছেন বলে জানান কবির নাতনি।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আগামী ১ মে লাখো কণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি আয়েজিত হয়।

অনিন্দিতা কাজী বলেন, ‘দাদুকে কেন্দ্র করে নানা উপলক্ষে আমাদের বাংলাদেশে আসতে হয়। এখানে এসে থাকতে হয় অন্যের বাড়িতে। এ জন্য অনেক সময় আসতে পারি না।’

জায়গার অভাবে মাকে নিয়ে আসতে পারেন না বলে জানান অনিন্দিতা। বলেন, ‘আমরা তো এখানে আসতেই পারি। কিন্তু আমি এলেও মাকে নিয়ে আসতে পারি না। থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। এমনিতে অনেকেই তাদের বাসায় দাওয়াত দেন। কিন্তু তারপরও স্থায়ীভাবে থাকার জন্য একটা ব্যবস্থা করে দিলে আমরা সবাই এসে এখানে থাকতে পারি।’

গত বছর এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন জানিয়ে কবির নাতনি বলেন, ‘আমরা ওনাকে (প্রধানমন্ত্রী) অনেক ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। উনি এ বিষয়ে অনেক আন্তরিক আমার বিশ্বাস। উনি অনেক ব্যস্ত থাকেন, হয়তো ভুলে গেছেন। আমার মনে হয় ওনাকে একটু মনে করিয়ে দিলে কাজটি হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশে নিজেদের একটু জায়গা থাকাটা আবেগের ব্যাপার বলেও উল্লেখ করেন জাতীয় কবির নাতনি। আর এ জন্য একটু অভিমান আছে বলেও জানান। ‘এটা শুধু আবেগ। জায়গা না পাওয়াতে কোনো ক্ষোভ নাই। তবে একটি অভিমান আর কি।’

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন অনিন্দিতা কাজী। তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে ১৫ বছর তারা টিভিতে উপস্থাপনা করেছি।’

তিন ভাই-বোনের মধ্যে অনিন্দিতা সবার ছোট। বড় ভাই কাজী অনির্বাণ একজন শিল্পী, ছবি আঁকেন। ছোটজন অরিন্দম কাজী গিটারবাদক।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধ। দুই বাংলার খ্যাতিমান আবৃত্তিকার ছিলেন কাজী সব্যসাচী। তিনি বিয়ে করেন উমা কাজীকে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডে (বর্তমান নজরুল ইনস্টিটিউট সংলগ্ন) কবি ভবনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তারা বসবাস শুরু করেন। কাজী সব্যসাচী ব্যবসার কাজে কলকাতায় থেকে গেলেও উমা কাজী কবিকে দেখার জন্য ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাদের তিন সন্তান। সবার বড় খিলখিল কাজী। তারপর মিষ্টি কাজী। সবার ছোট বাবুল কাজী। সব্যসাচী ১৯৭৯ সালের ২ মার্চ কলকাতায় মারা যান।

কবির ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা সংগীতজ্ঞ। তিনি কবির সৃষ্ট অমর সুর সম্পদ সংরক্ষণের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। নজরুলের দুষ্প্রাপ্র লুপ্ত, অর্ধলুপ্ত গানের সুর উদ্ধার, স্বরলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশের মাধ্যমে কবির সৃষ্টিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেন। কবির জীবদ্দশাতেই ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৪৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় মারা যান। অনিরুদ্ধর পরিবার কলকাতায় থাকেন। তার স্ত্রী কল্যাণী কাজী নজরুল সংগীতের প্রশিক্ষক। তিনি লেখালেখিও করেন। নজরুলের গান এবং কর্মকে সুপরিচিত করাই তার মুখ্য সাধনা। তাদের তিন সন্তান- অনির্বাণ কাজী, অরিন্দম কাজী ও অনিন্দিতা কাজী।