নদীভিত্তিক পর্যটনে গতি আসবে অর্থনীতিতে




নদীভিত্তিক পর্যটনে গতি আসবে অর্থনীতিতে

স্টার বাংলা নিউজ: পর্যটনের অন্যতম অনুসঙ্গ প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইতিহাসসমৃদ্ধ প্রায় চারশ নদী আছে। এসব নদী সংরক্ষণ, নদীভিত্তিক পর্যটনের গবেষণা, পরিকল্পনা ও প্রচারণার উদ্যোগ নিলে অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন শংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, দেশে নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। এরমধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১০২টি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১১৫টি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৮৭টি, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৬১টি, পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলে ১৬টি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৪টি নদী আছে। বড় নদীর মধ্যে রয়েছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, শীতলক্ষ্যা, গোমতী। প্রতিবেশী ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৮টি। যার মধ্যে ভারতের সঙ্গেই রয়েছে ৫৫টি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও পর্যটন সেবায় সমঝোতা স্মারক সই এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) বিনিময় করা হয়। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ থেকে লালমনিরহাটের দইখাওয়া এবং আশুগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জ পর্যন্ত চ্যানেলের নাব্যতা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ফলে ঢাকা-কলকাতা নৌ-রুটে জাহাজ চলাচল ও নদীভিত্তিক পর্যটন বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পর্যটকরা এ রুটে ভ্রমণের সময় দু’দেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। ওই সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের নৌপথে যাত্রী পরিবহন শুরু হলে দু’দেশেই পর্যটক বাড়বে। জলপথ ব্যবহার করে পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশই সম্মত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও  আলাপ-আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে।’

রিভারাইন পিপলের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ রোকন বলেন, ‘দেশে নদীভিত্তিক পর্যটন বাড়লে নদীর প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। তবে নদীভিত্তিক পর্যটনে সর্তকতার প্রয়োজন আছে। পর্যটনের কারণে যাতে নদীর পরিবেশ নষ্ট না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুম ও প্রজনন স্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া কাঞ্চন বলেন, ‘পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব। নদীভিত্তিক ক্যাম্পেইনিং করা গেলে এর সুফল পাওয়া যাবে। তবে এজন্য পর্যটনের বিপণনের কৌশল নির্ধারণ ও পর্যটন কেন্দ্রের সুরক্ষা খুবই প্রয়োজন। কারণ, পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

উল্লেখ্য, সরকার ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ ঘোষণা করার পর আন্তঃদেশীয় পর্যটন নিয়ে আলোচনা হলেও নদীভিত্তিক পর্যটনের পর্যাপ্ত প্রসার হয়নি। এখনও নদীভিত্তিক পর্যটন বলতে বরিশাল, পিরোজপুরের ভাসমান বাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, লালাখাল, সুন্দরবন ভ্রমণকেই বোঝায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নদীর রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য বাড়ালে নদীভিত্তিক পর্যটন ভিন্ন মাত্রা পাবে। নদীভিত্তক পর্যটন প্রসারে অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, পর্যটন পণ্য বিপণনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য রিভারাইন ট্যুরিজমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’