স্টার বাংলা ডেস্ক: বাড়িতে বা বহুতল ভবনে অথবা কলকারখানাসহ সব জায়গাতেই কোন রকম ইলেকট্রিক তার সংযোগ ছাড়াই চলবে এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যান কম্পিউটারসহ যাবতীয় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য। বৈদ্যুতিক তার সংযোগ ছাড়াই নির্দিষ্ট জায়গায় ফ্রিজ, এসি, ফ্যান, লাইট চালানো বিষয়টি অবাক করারই ব্যাপার। এমনই এক উদ্ভাবনের কথা জানালেন যশোর শার্শা উপজেলার নাভারন বুরুজবাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা জামান শ্রাবনী।

শার্শা উপজেলা অডিটোরিয়াম কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে এলাকার খুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০১৭। মেলায় গিয়ে দেখা যায় উপজেলার সব স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের উদ্ভাবিত পণ্য নিয়ে নিজ নিজ স্টলে মেলায় আগন্তুক দর্শণার্থীদের বিস্তারিত জানাচ্ছেন।

অডিটোরিয়ামের বাম হাতের প্রথম গলিতে যেয়ে দেখা মেলে উম্মে হাবিবা জামান শ্রাবনীর উদ্ভাবিত ‘ওয়ারলেস পাওয়ার টান্সমিশন সিস্টেম’ প্রজেক্ট। প্রজেক্টটি কিভাবে কাজ করে জানতে চাইলে এ খুদে বিজ্ঞানী জানান, ওয়ারিং ছাড়াই ঘরের সব ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য চালানো সম্ভব এ প্রজেক্টের মাধ্যমে। তা ছাড়া এ প্রজেক্টের মাধ্যমে জানা যাবে পুরাতন ঘরে ওয়ারিং এর ত্রুটি-বিচ্যুতি। একটি বারো ভোল্টের পাওয়ার সাপ্লাইয়ার, একটি প্রাইমারি ও একটি সেকেন্ডারি বিদ্যুতের কয়েল, একটি পাওয়ার টেনজেজটার দিয়ে মাত্র ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকার মাধ্যমে ছোঁট আকারে এ প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে। সরকারী সহযোগিতা পেলে মাত্র এক হাজার থেকে ২ হাজার টাকা খরচ করে ফ্লাটে বা কলকারখানায় এ প্রজেক্ট চালু করা সম্ভব বলে জানান এ খুদে বিজ্ঞানী।

হাবিবা জামান শ্রাবনী কাছে ‘ওয়ারলেস পাওয়ার টান্সমিশন সিস্টেম’ আবিস্কারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রায় সময় টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রে দেখি ওয়ারিংয়ের ক্যাবেল থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে ভবনে আগুন লেগে ব্যাপক যানমালের ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে আমি ভাবতে থাকি কিভাবে এ শর্টসার্কিট হতে যানমালের ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আমার ভাবনা থেকেই কাজ শুরু হয়। এক সময়ে আমি ডিজিটাল এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ যন্ত্রটি তৈরি করতে সক্ষম হই। কোন রকম বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ছাড়ায় আমি এক সময়ে ফ্যান, লাইটসহ যাবতীয় ছোঁট আকারের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য চালাতে সক্ষম হই। তবে এখনো যন্ত্রটির ব্যবহার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে সরকারি বা বেসকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে এটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা সম্ভব বলে জানান এ খুদে বিজ্ঞানী।