মাদ্রাসাকে জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চায় শিক্ষক নেতারা




মাদ্রাসাকে জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চায় শিক্ষক নেতারা

স্টার বাংলা নিউজ: মাদ্রাসাকে জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জনের পর শিক্ষাকতা পেশাকে বেছে নিয়েছি। এই পেশায় আসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ ও জাতিকর কল্যানে নিজেদেরকে নিয়োজিত করা।
আজ বুধবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে মাদরাসাসহ সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষক নেতার এসব কথা বলেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকরা সব সময় দেশ-সমাজ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে আসছেন। সমাজে আদর্শবান মানুষ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিই আমাদের একমাত্র স্লোগান। তবে শুধুমাত্র মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার কারণে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন জাতীয়করণ করা হচ্ছে না?
এ সময় সংগঠনের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের একমাত্র অভিভাবক। আপনার কাছে আমাদের একটিই চাওয়া, সকল বেসরকারি মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করুন।
তিনি বলেন, আপনার স্নেহধন্য হয়ে-জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষে শিক্ষকতার মধ্যদিয়ে আর্দশ সমাজ গঠন করতে চায়। তাই আপনার কাছে আমাদের দাবি-মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে আমাদের উৎসাহিত করুন।

বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. রিয়াজুল করিম, মো. মিজানুর রহমান, নাজমুল হোসেন, কে.এম সালাহ্ উদ্দিন, মো. আক্তার হোসেন, মো. আমির উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ফজলুল বারী বেলাল, যুগ্ম মহাসচিব হোসনী মোবারক, আব্দুল আহাদ সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাবিল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হানিফ উদ্দিন খান, শান্ত ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক  মো. দেলোয়ার হোসেন, কার্যকরী সদস্য সফিউল আজম, রফিকুল ইসলাম, মো. খোরশেদ কবীর প্রমুখ।

সংগঠনের মহাসচিব মো. জহির উদ্দিন হাওলাদার বেসরকারি শিক্ষা ব্যাবস্থা জাতীয়করণসহ ৮দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবীসমূহ:- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে জারিকৃত ২০১২ সালের পরিপত্র বহাল রাখা এবং ২০১৩ সালের জারিকৃত সংশোধিত পরিপত্র বাতিল করে মাদ্রাসার প্রশাসনিক পদে জেনারেল (নন্অ্যারাবিক) শিক্ষক নিয়োগের বিধান চালু করা, সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নোতির ক্ষেত্রে ৫:২ অনুপাত প্রথা বাতিল করা, বদলীকরণ, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও সম্মানজনক বাড়ি ভাড়া প্রদানসহ প্রতিটি আলিম/ফাজিল (পাস)/মাদ্রাসায় বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করা; আলিম/ফাজিল পর্যায়ে প্রতিটি অনুমোদিত বিষয়ে দ্বিতীয় শিক্ষক নিয়োগ করা এবং শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণী সভায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন এর প্রতিনিধি রাখা, জনবল কাঠামোয় গ্রন্থাগারিক, প্রদর্শক ও ল্যাব-পিয়ন পদ অন্তর্ভুক্ত করা, এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রভাষককে চাকুরীকাল ৪ (চার) বছর পূর্তিতে সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতিসহ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ/স্নাতক (পাস) কলেজের মতো আলিম/ফাজিল (পাস) মাদ্রাসায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা বলেন।