ফ্রিজ-টিভি মেরামতের কথা বলে শিশু অপহরণ




ফ্রিজ-টিভি মেরামতের কথা বলে শিশু অপহরণ

স্টার বাংলা নিউজ: ফ্রিজ-টিভি মেরামতের কথা বলে তিন মাসের একটি শিশুটিকে অপহরণ করে ইলেক্ট্রিশিয়ান সুমন। এরপর শিশুটির বাবা-মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি অপহরণকারী। ১৭ মে (বুধবার) রাজধানীর কেরানীগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। তবে র‌্যাবের তৎপরতায় পরের দিন বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ থেকে শিশু শিনকে উদ্ধার এবং সুমনকে আটক করা হয়।

শুক্রবার কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০ এর কমান্ডিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন মাতাব্বর এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অপহরণকারী সুমন টিভি-ফ্রিজ মেরামতের কাজ করে। কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় তার একটি দোকানও আছে। সেই সূত্রে জিনজিরার মেডিক্যাল প্রমোশন অফিসার শাখাওয়াত হোসেন ও তার পরিবারের সঙ্গে পরিচয়। ১৭ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাখাওয়াতের বাসায় যায় সুমন। এসময় শাখাওয়াতের স্ত্রী রিতু ইসলাম মিতুকে জিজ্ঞেস করে কোনও কাজ আছে কিনা?  কোনও কাজ নেই জানিয়ে সুমনকে বসতে বলে মিতু পাশের রুমে বাচ্চার কাপড় আনতে যান। ড্রয়িং রুমের খাটের ওপর ৩ মাসের সন্তানটি ছিল। ফিরে গিয়ে দেখেন রুমের ছিটকিনি বাইরে থেকে আঁটকানো। তিনি দরজা খোলার কথা বলতে থাকেন, কিন্তু পাশের ঘর থেকে কোনও সাড়া শব্দ না পেয়ে কাঁদতে শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী একজন এসে দরজা খুলে দেন। তখন ড্রয়িং রুমে এসে ৩ মাসের মেয়ে ও ইলেকট্রিশিয়ান সুমন কাউকেউ পাননি। এরপর সুমনকে বার বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর মুক্তিপণ চেয়ে সুমন ফোন করে বলে জানান র‌্যাব ১০ এর সিও। তিনি বলেন, ‘সুমন মিতুর মোবাইলে ফোন করে বলে, ‘আমি তোর মেয়েকে নিয়ে চলে এসেছি। মেয়েকে ফেরত পেতে চাইলে দুই লাখ টাকা রেডি রাখ। যখন বলবো নিয়ে আসবি। র‌্যাব-পুলিশ কাউকে জানালে তোর মেয়েকে পাবি না। এরপরই সে ফোন কেটে দেয়। রাত ১১টার দিকে সুমন আবার ফোন করে তাড়াতাড়ি টাকার ব্যবস্থা করতে বলে।’

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে আবার ফোন করে শিন সুস্থ আছে জানিয়ে কখন কোথায় টাকা নিয়ে আসতে হবে জানায়। একই সঙ্গে পুলিশকে জানালে মেয়েকে হারাতে হবে বলে হুমকি দেয় সুমন। এদিকে কোন উপায় না দেখে শাখাওয়াত হোসেন র‌্যাব-১০ কে বিষয়টি জানায়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে  বিকেল ৪টা থেকে অভিযান শুরু করে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার গোলাম বাজার কাঁচা বাজারের পাশে লাকড়ি ঘরের কাছ থেকে অপহরণকারী সুমনকে গ্রেফতার করে। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোলাম বাজার  হাবিব কলোনি গলিতে দোতলা একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারী সুমন শিশুটিকে অপহরণ ও ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির কথা স্বীকার করেছে। সে আরও জানায়, অপহরণের কাজটি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে করেছে। অপহরণের পর তার পূর্ব পরিচিত পারভেজের বাসায় শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং তাদেরকে জানায় শিশুটির মা নেই। শিশুটিকে সে দত্তক নিয়েছে। ১৯ মে তার বোন মাদারীপুর থেকে এসে সেখানে নিয়ে যাবে। এরই মধ্যে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে।