গৃহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার:জরিমানা দিল নাহিয়ান পরিবারের




গৃহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার:জরিমানা দিল নাহিয়ান পরিবারের

আন্তজাতিক ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-নাহিয়ান পরিবারের ৮ সদস্যাকে গৃহকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের দায়ে ১৫ মাসের জেল ও প্রত্যেককে ১ লাখ ৮৪ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে বেলজিয়ামের আদালত। শুক্রবার বেলজিয়ামের ওই আদালত ৭ আমিরাতি রাজকুমারী ও তাদের মায়ের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ এমনকি বিদেশে পাচারের প্রমাণ পায়। অভিযুক্ত ৮ রাজকুমারীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে তাদের পক্ষে আইনজীবী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্মীদের চিকিৎসার জন্যে খরচ দেওয়া হয়েছে এবং যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এরা কাজের সুযোগ পেয়েছিল সে প্রতিষ্ঠানই এ ঘটনার জন্যে দায়ী।

২০০৮ সালে আবু ধাবির আল-নাহিয়ান পরিবারের ওই ৮ রাজকুমারি ব্রাসেলস’এর কনরাড হোটেলের সমস্ত কক্ষ কয়েক মাসের জন্যে ভাড়া নেন। এসময় তারা তাদের সেবার জন্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২৩ জন গৃহকর্মী ভাড়া নেন যাদের অধিকাংশই নারী। কিন্তু এসব গৃহকর্মীর সঙ্গে আবু ধাবির রাজকুমারীরা চরম দুর্ব্যবহার করেন, ঠিকমত খেতে দেননি, তাদের খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ খেতে দিয়েছেন, রুমের বাইরে করিডোরে ঘুমাতে দিয়েছেন এবং বাধ্যতামূলক ভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজেদের ইচ্ছা অনুয়ায়ী কাজ করান। এক পর্যায়ে একজন গৃহকর্মী কনরাড হোটেল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং পুলিশের কাছে রাজকুমারীদের দুর্ব্যবহার সম্পর্কে অভিযোগ করে।

ওই হোটেলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এসব গৃহকর্মীদের বাড়ি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। তাদের সপ্তাহের প্রতিটি দিন প্রায় ২৪ ঘণ্টাই কাজ করানো হত। রাজকুমারীদের সবধরনের কাজ তাদের করতে হত। বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হত। খেতে দেওয়া হত তাদের খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ। রাজকুমারীদের কক্ষের বাইরে মেঝেতে ঘুমানোর সুযোগ পেত এসব নারী গৃহকর্মী।

এসব গৃহকর্মীদের নামমাত্র পারিশ্রমিক দেওয়া হত। তাদের ওয়ার্কিং পারমিট ছিল না। থাকার কোনো বাসস্থান ছিল না। কেউ কেউ কোনো পারিশ্রমিক পর্যন্ত পায়নি। বেলগা নিউজ এজেন্সি জানায়, ব্রাসেলস’এর আদালত শেইখা হামদা আল-নাহিয়ান ও তার ৭ কন্যার বিরুদ্ধে এ শাস্তির নির্দেশ দেয়।

ব্রাসেলসের কনরাড হোটেলের বাইরে গৃহকর্মীদের যেতে দেওয়া হত না। প্লেইনটিফসের এক আইনজীবী জিয়ান-পিয়েরে জ্যাকুয়েস জানান, আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তষ্ট। কারণ আদালত তার রায়ে পরিস্কার বলেছে, রাজকুমারীদের এ ধরনের আচরণ আধুনিক দাসপ্রথার শামিল। গত ৯ বছর ধরে আমরা এধরনের আচরণের বিচার চেয়ে আসছি। তবে আবু ধাবির রাজপরিবারের আইনজীবী স্টিফেন মনোদ বলেন, দু:খজনকভাবে আদালত ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। গৃহকর্মীদের অধিকারবিহীন জীবনের জন্যে আমিরাতের সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গত বছর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন ও রাজনীতি গৃহকর্মীদের অপব্যবহার ও শোষণ থেকে রক্ষা করতে পারে না। বিবিসি