ঈদের তৃতীয় দিনেও ভিড় ছিল শিশুপার্কে




ঈদের তৃতীয় দিনেও ভিড় ছিল শিশুপার্কে

স্টার বাংলা নিউজ: ঈদের ছুটি শেষে বুধবার অনেকেই ফিরেছেন নিজের কর্মস্থলে। ছুটি শেষ হলেও বুধবার রাজধানীর প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্রেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করে মানুষজন। আজ তেমনি উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে শাহবাগের শিশুপার্কেও।

সকাল থেকেই রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। তবে গরমের কারণে দিনের প্রথম ভাগে চাপ কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে সব জায়গাতেই মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যায়।

বুধবার বিকেলের দিকে রীতিমত তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা হয় শিশুপার্কে। মানুষের ভিড় এতটাই বেশি যে, অনেকেই কোনো রাইডে চড়তে না পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সকালে গেট খোলার পর থেকেই শুরু হয় মানুষের পদচারণা। দুপুরের দিকে জনসমাগম বাড়তে থাকে, বিকেলে মানুষের সমাগম আরও বেড়ে যায়।

ঢাকার ইব্রাহিমপুর থেকে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে আসা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মালিহা বলেন, পার্কে ঢুকে ট্রেন ছাড়া আরও কয়েকটি রাইডে চড়তে পারিনি ভিড়ের কারণে, তবে ঘুরতে খুব মজা হয়েছে।

আরেক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর রহমান বলেন, সে রামপুরা থেকে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে। তার দাদার বাড়ি শরীয়তপুরে। সঙ্গে চাচাত ভাই ও আন্টিরা এসেছেন।

তানভীরের চাচাত ভাই সোহানুর রহমান হাসি মুখে বলেন, আমরা চাচাত ও জেঠাতো তিন ভাই, এ সময় তারা হাতে ধরাধরি করে শিশুপার্কের গেটের দিকে এগিয়ে যায়। পিছনে পিছনে যাচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্যরা।

গাজীপুরের বড় বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে আসা শিশু আবু রায়হান লাজুক লাজুক ভঙ্গিতে জানায়, আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে আসছিলাম। শিশু পার্কের ভিতরে অনেকগুলো রাইডে চড়েছি। সবাই মিলে খুব মজা করেছি।

তিলপাপাড়া মাদরাসার হিফজ বিভাগে অধ্যায়নরত শহীদবাগ থেকে মা-বাবা এবং ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা সাফিন বলেন, শিশুপার্কে ঘুরতে আসলাম মাত্র। ভিতরে ঢুকে সবগুলো রাইডে চড়বো, খুব মজা করব।

দর্শনার্থীদের বের হওয়ার গেটে দাঁড়ানো শিশুপার্কের এক কর্মচারী জানান, ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার প্রচুর মানুষ ছিল। আজও অনেক মানুষের সমাগম। গতকাল মঙ্গলবার দর্শকদের ভিড় ছিল প্রচণ্ড, সেদিন ৭২ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মানুষ খালি বের হওয়ার গেট দিয়ে ঢুকতে চায়। এই গেট দিয়ে ঢুকতে দেখলে তো আমার চাকরিটা খাইবো। গত বছর হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে হামলার পর শিশু পার্কের নিরাপত্তার জন্য ফিট করা হয়েছে ৩২টি সিসি টিভি ক্যামরা। সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তো পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেই।