আসিকের মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার অাল্টিমেটাম সাংবাদিকদের




আসিকের মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার অাল্টিমেটাম সাংবাদিকদের

স্টার বাংলা নিউজ: ডেইলি অবজারভারের ফটোসাংবাদিক আসিক মোহাম্মদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার ও তাকে মুক্তি না দিলে রাজধানীর পল্টন থানা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। শনিবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে দ্রুত তরুণ এই আলোকচিত্রীর মুক্তির দাবি জানান সাংবাদিক নেতা ও ফটোসাংবাদিকসহ গণমাধ্যমের অন্যান্য সংবাদকর্মীরা। এছাড়া ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে সড়কও অবরোধ করেন তারা।

সাংবাদিক নেতারা সমাবেশে বলেন, ‘আমরা জানি, আসিকের বিরুদ্ধে  ইয়াবার মিথ্যা মামলা একটি সাজানো নাটক। যেভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তা সাংবাদিক সমাজে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে তাকে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে সারাদেশে আমাদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। ’

এর আগে সকাল ১১টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন শতাধিক সাংবাদিক। কর্মসূচিতে ফটোসাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘আমরা আসিকের নিঃশর্ত মুক্তি চাই ও পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করছি।’ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজমল হক হেলাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আসিকের বাবা একহাতে রাইফেল আর একহাতে ক্যামেরা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসা করতে পারে না।’

আসিককে মুক্তি দেওয়া না হলে পুলিশের কর্মসূচিকে বর্জনের জন্য ফটোসাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ। তিনি শনিবারের সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের ফরহাদ ভাইয়ের সন্তান আসিককে নিয়ে পুলিশ নাটক করছে। যদি ২৪ ঘণ্টার মধো ছাড়া না হয় তাহলে পল্টন থানা ঘেরাও করা হবে। তাকে যদি না ছাড়া হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘বাবার পেশায় কর্মরত আসিকের মুক্তি দাবি করছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে সাংবাদিক ইউনিয়ন মনে করে, এই মামলা মিথ্যা ও বনোয়াট।’

এই নেতা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ও এর সঙ্গে জড়িতদের প্রতি নিন্দা জানিয়ে ডিইউজে একাংশের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সরকার ও আওয়ামী লীগকে হেয় করার জন্য পুলিশ এই কাজ করেছেন কিনা সেটাও ভেবে দেখা দরকার।’

মাঝরাতে রাস্তা থেকে ফটো সাংবাদিক আসিককে তুলে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমরা এমন ঘৃণ্য ঘটনার প্রতিবাদ জানাই। যদি এরপরও আসিককে মুক্ত করা না হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ফটো সাংবাদিক আসিক মোহাম্মদের মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরাফটো সাংবাদিক আসিক মোহাম্মদের মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে সব কালো আইন বাতিলসহ আসিকের মুক্তি চাই। আমরা জানি এটা সাজানো নাটক। এ ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বহিষ্কার দাবি করছি। যদি আসিককে মুক্তি না দেওয়া হয় তাহলে সারাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।

সম্প্রতি একের পর এক সাংবাদিকদের ৫৭ ধারায় আটক বিষয়ে ডিআরইউ সভাপতি আরও বলেন, ‘আইনমন্ত্রী এই আইনটি বাতিলের একটি বিল আনবেন বলেছিলেন, কিন্তু আনেননি। আগামী ১২ জুলাই ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন তিনি।’

এদিকে দৈনিক সকালের খবর সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সহ-সভাপতি আজমল হক হেলালের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলার সমালোচনা করে বক্তারা তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এছাড়া ৫৭ ধারা মামলাটি বাতিলের দাবিও জানান তারা। রবিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবের সামনে আবারও সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

ঈদের পরদিন মধ্যরাতে রাজধানীর রামপুরায় একটি অনুষ্ঠান শেষে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় ফেরার সময় শান্তিনগর বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে আসিক মোহাম্মদ আটকায় পল্টন থানার টহল পুলিশ। এরপর পুলিশ তাকে তল্লাশি করে কিছু না পেলেও আটক করে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। তারা আরও জানান, এরপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় আসিককে পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।