চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি!




চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি!

স্টার বাংলা ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা শহরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি রোগ পর্যবেক্ষণকারী সরকারি সংস্থা   রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) চিকুনগুনিয়া নিয়ে জরিপ চালায়। সেই জরিপে চিকুনগুনিয়ার উপস্থিতির ধারণা পাওয়ার জন্য এ রোগের উপসর্গের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৭৭৫ জনের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে ৩৫৭জন জ্বর ও গিরা ব্যথায় ভুগছেন ও ভুগেছেন বলে জানায়।

জরিপে মোট অংশগ্রহণকারীর বিপরীতে ৩৫৭ জনের জ্বর ও গিরা ব্যথাকে শতকরা হিসাব করে ‘ঢাকায় প্রতি ১১ জনে একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত’ উল্লেখ করে আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত বছরের চেয়ে এ বছর ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ থাকায় সাধারণ মানুষ ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে সত্যি বলে ধরে নেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশীয় অনেক পত্রপত্রিকায়ও খবর প্রকাশিত হয়।

এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন,  ঢাকা শহরে প্রতি ১১ জনে একজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সঠিক নয়। জরিপটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়নি।

জরিপটির পরবর্তী কার্যক্রমে এদের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অসম্পূর্ণ জরিপের ভিত্তিতে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্রকৃত সংখ্যার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে না। আইইডিসিআরের প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত রোগীর সংখ্যা নয়, বরং রোগের উপস্থিতি সম্পর্কে জানাই মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি বলেন, ‘সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব না হলেও বিগত বছরের তুলনায় এবার চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সকাল ও সন্ধ্যার দিকে এ মশা বেশি কামড়ায়।’

বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এদিকে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রোববার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।