ব্যাংক লুট ঠেকাতে সদিচ্ছার অভাব: দেবপ্রিয়




ব্যাংক লুট ঠেকাতে সদিচ্ছার অভাব: দেবপ্রিয়

স্টার বাংলা নিউজ: রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যাংক লুট ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘এখন ব্যক্তি খাতে এমন কোন প্রজন্মের ব্যাংক নেই যে আক্রান্ত হচ্ছে না।’

সোমবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ২০১৭-২০১৮ সালের অনুমোদন করা বাজেট নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলি, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন পরিচালনার বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এটাকে (ব্যাংকিং জালিয়াতি) দেখভাল করে না কেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ কী করছে। তার সঙ্গে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন রয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তারা সক্রিয়তা দেখাতে পারতো।’

‘এটা কোন প্রাতিষ্ঠানিক কারণ নয়, কোন সক্ষমতার বিষয়ও না। এটার ব্যাপারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই।’

সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটাতে বাজেটে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখারও সমালোচনা করেন সিপিডির সম্মানয় ফেলো। তিনি বলেন, ‘দুই হাজার কোটি টাকা ব্যাংকের জন্য রাখা হয়েছে এটা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা সিন্দুর মধ্যে বিন্দু, তলিয়ে যাবে ওনাদের যে পরিমাণ ঘাটতি সেটা এ টাকা কোন অবদানই রাখেবে না।’

গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আলোচনার বিষয়। সমালোচনা ও নজরদারি সত্ত্বেও এই ঋণ বেড়েই চলেছে। বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাংক ঋণ আদায় করতে না পেরে মূলধন ঘাটতিতেও পড়েছে। আর সরকার টাকা দিয়ে সেগুলো টিকিয়ে রেখেছে।

শুরুতে সরকারি ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ সমস্যায় ভুগলেও ইদানীং বেসরকারি ব্যাংকেও মন্দ ঋণ বাড়ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কোন সুযোগ থাকতো না। বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এতে খুশি। তবে এর জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার।’

সিপিডির ফেলো বলেন, ‘আগে ছিল নতুন ব্যাংক আর অন্যদিকে ছিল কিছু সরকারি ব্যাংক। এখন প্রথম প্রজন্মের ব্যক্তিখাতের ব্যাংকও কিন্তু অসুবিধায় পড়েছে। আপনারা আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের ঘটনা দেখেছেন। এখন ব্যক্তি খাতে এমন কোন প্রজন্মের ব্যাংক নেই তারা কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছে। এটার কারণ ব্যাংকের ভেতরে সুশাসন না থাকা এবং তাদের উপরে নজরদারি ঠিক করে না রাখা।’

ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে আলাদা ব্যাংকিং কমিশন গঠনের পরামর্শও দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সিপিডির শীর্ষ কর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।