লঙ্কানদের লজ্জায় ডুবিয়ে সিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ে




লঙ্কানদের লজ্জায় ডুবিয়ে সিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ে

স্টার বাংলা ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার মাটিতে রেকর্ড রান তাড়া করে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই জয়ের ধারা পরের দুই ম্যাচে বজায় রাখতে পারেনি গ্রায়েম ক্রেমারের দল। তবে চতুর্থ ম্যাচটি জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় তারা। হাম্বানটোটায় বৃষ্টি আইনে পাওয়া ওই জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে শেষ ম্যাচটিও জিতল জিম্বাবুয়ে। সোমবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচটি জিতেছে ৩ উইকেটে, ৩-২ ব্যবধানে সিরিজও নিশ্চিত করেছে তারা।
২০০৯ সালের পর বিদেশের মাটিতে প্রথমবার অ্যাওয়ে সিরিজ জিতল জিম্বাবুয়ে। শ্রীলঙ্কাতেও এটা তাদের প্রথম সিরিজ জয়।
মন্থর পিচে আগে ব্যাট করা দল খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। তাই টস জিতে গ্রায়েম ক্রেমার শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠালেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সফল। বল মাঠের বাইরে পাঠাতে হাসফাস করেছে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। উইকেটও তারা হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। তবে ৫০ ওভারের কোটা পূরণ করতে পেরেছে লঙ্কানরা। কিন্তু রানটা প্রয়োজনের চেয়ে কম জমা পড়েছে স্কোরবোর্ডে, ৮ উইকেটে ২০৩।
মূলত সিকান্দার রাজা ও ক্রেমার বল হাতে সবচেয়ে সফল। তাদের স্পিন টেনে ধরেছিল শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের লাগাম। গত দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করা দানুশকা গুনাথিলাকা এদিনও প্রতিরোধ না গড়লে স্বাগতিকদের বিপদ আরও বাড়তে পারত। দলের ৭৮ রানের মধ্যে অন্য প্রান্তের চার ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে যেতে দেখলেও তিনি ছিলেন সতর্ক। কিন্তু টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি গুনাথিলাকা। ৮৬ বলে ৫ চারে ৫২ রান করেছেন এ ওপেনার।
৩৪ রানের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কা হারায় আরও ৪ উইকেট। এবার হাল ধরেন আসেলা গুনারতেœ। মিডল অর্ডার এ ব্যাটসম্যান করেন হাফসেঞ্চুরি। ৮১ বলে ৪টি চারে ইনিংস সেরা ৫৯ রান আসে গুনারতেœর ব্যাটে।
সিকান্দার ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ২১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ক্রেমার সমান বল করে ১ মেডেনসহ ২৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট।
ঝুঁকিপূর্ণ রান নিয়েই দলকে টেনে তুলেছেন গুনাথিলাকালক্ষ্যটা মোটেও কঠিন ছিল না। হ্যামিলটন মাসাকাদজা ও সলোমন মিরের ৯২ রানের জুটি বলছিল সে কথাই। ৩২ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ের ঝড়ো ইনিংসে ৪৩ রান করে গুনারতেœর শিকার হন মির। তারিসাই মুসাকান্দার সঙ্গে ৪৫ রানের আরেকটি জুটি গড়েন মাসাকাদজা। ৮৬ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে সাজানো তার ৭৩ রানের ইনিংসের সমাপ্তি হয় এ জুটি ভাঙলে।
সহজ জয়ের আভাস পাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু তাদের ভড়কে দেন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা আকিলা ধনঞ্জয়া। ডানহাতি এ অফস্পিনারের ষষ্ঠ ওভারে জিম্বাবুয়ানদের ব্যাটিং লাইন আপ নড়বড়ে হয়ে ওঠে। তার টানা তিন ওভারে ক্রেইগ আরভিন (২), শন উইলিয়ামস (২) ও মুসাকান্দা (৩৭) আউট হন। ১৭ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় শ্রীলঙ্কা।
ম্যালকম ওয়ালার মাত্র ১ রানে লাসিথ মালিঙ্গাকে ফিরতি বলে ক্যাচ দেওয়ার পর জিম্বাবুয়ের সপ্তম উইকেট তুলে নেন ধনঞ্জয়া। ১৭৫ রানে ৭ উইকেট নেই সফরকারীদের। তবে শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে যান সিকান্দার ও ক্রেমার। অপরাজিত ২৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা। ৩৯তম ওভারের প্রথম বলে ৬ মেরে দলকে জেতান সিকান্দার। ২৭ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে ১১ রানে খেলছিলেন ক্রেমার। ৩৮.১ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৪ রান করে জিম্বাবুয়ে।
১৪ জুলাই কলম্বিয়ার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্ট খেলে এ সফর শেষ করবে জিম্বাবুয়ে। ক্রিকইনফো