হানিফ ফ্লাইওভারের সিঁড়ির প্রবেশপথ বন্ধ করেছে ডিএসসিসি




হানিফ ফ্লাইওভারের সিঁড়ির প্রবেশপথ বন্ধ করেছে ডিএসসিসি

স্টার বাংলা নিউজ: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথের ওঠা-নামার সিঁড়ির প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।  একটি রিটের প্রেক্ষিতে আদালত সিঁড়িগুলো অপসারণের নির্দেশ দেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী পয়েন্টের সিঁড়ি বন্ধ করে দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।তিনি জানান, দুপুরে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সিঁড়ির ওপর ও নিচের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আদালতের নির্দেশের পর প্রথমে সিঁড়িগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। বিকেলের দিকে সিঁড়িগুলো অপসারণ করা হবে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে সিঁড়ি অপসারণের জন্য পে-লোডার নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও করপোরেশনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর সিঁড়ি অপসারণ কাজ শুরু হবে।

এর আগে গতকাল সোমবার ফ্লাইওভারের তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপ কর্তৃপক্ষের করা একটি লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও দেশে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি নেই।’

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সচিত্র প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছিলেন। পরে আদালত তা আমলে নিয়ে ওই আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩১ মে দুই সপ্তাহের মধ্যে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

সড়ক ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার পুলিশ কমিশনার,  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ৬ থেকে ৭টি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন ব্যারিস্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল।

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ৬ থেকে ৭টি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন এতদিন বিদ্যমান ছিল। এসব স্টেশনে বাস ও লেগুনা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটতো। গত ৩-৪ মাসে ফ্লাইওভারের ওপরে ১০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া বাসস্টেশন থাকার কারণে প্রায়ই সেখানে যানজট লেগে থাকে।