ঢাকা যেন ‘আড়িয়াল বিল’




ঢাকা যেন ‘আড়িয়াল বিল’

নুর আলম/হারুনর রশিদ: প্রকৃতিতে চলছে বর্ষা মৌসুম। আর মৌসুমের জানান দিতে বেশ উদার হয়ে উঠেছে আকাশ। আষাঢ়ের নামা ঢলে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ, মৌচাক, মতিঝিল, গুলিস্তান, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, কারওয়ানবাজার, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, ১২, গ্রিন রোড, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়া, কালশী, ইসিবি চত্ত্বর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার প্রায় সবকটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তায় পানির যে ঢেউ বইছে তা দেখে মনে হবে যেন রাজধানী একটি ‘বদ্ধ নদী’।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে নামে আষাঢ়ের ঢল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝে দুপুরের দিকে কিছুটা ভারী বর্ষণ হয়। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, রাজধানীতে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮ মিলিমিটার। এ বৃষ্টিতে রাজধানীর সিংহভাগ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট। কোথাও কোথাও যানজট রূপ নিয়েছে ভয়াবহ জটে।

স্কুল ছুটির পর ঘরেফেরা শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে বিড়ম্বনায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ঘরে ফিরেছে ভিজে। আর ঘর থেকে যারা কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাদেরও ফিরতে হয়েছে ড্রেন আর বৃষ্টির পানির মাখামাখিতে।

 

খিলগাঁও ও রামপুরা অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এ এলাকার প্রতিটি রাস্তায় হাঁটু পানি জমে আছে। রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের পরিবহনে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গাড়ির চাকার প্রায় পুরোটাই তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। রাস্তায় জমে থাকা পানির কারণে  সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপর থেকে শুরু হওয়া যানজট ঠেকেছে আবুল হোটেল পর্যন্ত।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণ হলে রাস্তায় পানি জমে। তবে আজকের মতো এতো পানি আগে কখনও খিলগাঁওয়ের রাস্তায় জমেনি। প্রতিটি রাস্তায় হাঁটু পানি। নিচু অনেক বাড়ির ভিতরে পানি ঢুকেছে। খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় হাঁটু পানি জমেছে।

 

মতিঝিল ও গুলিস্তান ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পর পরই আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনের রাস্তা, মতিঝিল বিমান অফিস ও দৈনিক জনতা অফিসের সামনে, দৈনিক বাংলা মোড় যাওয়ার রাস্তা, নটর ডেম কলেজের সামনের রাস্তা, রাজারবাগ, মালিবাগ, মৌচাক থেকে মালিবাগ রেলগেট প্রতিটি রাস্তায় পানি জমেছে।

বৃষ্টি থামার কিছু পরই গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের রাস্তা থেকে পানি সরে যায়। তবে সব থেকে খারাপ অবস্থা মালিবাগ, মৌচাক ও রাজারবাগের।

এসব অঞ্চল ঘুরে  জানান, রাজারবাগ, মালিবাগ ও মৌচাকের রাস্তায় বিকাল পর্যন্ত হাঁটু পানি জমে থাকে। খানাখন্দ ও জমে থাকা পানির কারণে রাস্তার ওপর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে পরিবহনগুলোকে। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

 

কালশীর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার প্রায় প্রতিটি দোকানের ভেতরে পানি ঢুকেছে। এমনকি বেশকিছু বাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢুকেছে। সাংবাদিক কলোনির মূল গেটে প্রায় কোমর সমান পানি। ফলে বন্ধ থাকে যান চলাচল। এছাড়া রাস্তায় নামা মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে।

মিপুরের বিভিন্ন এলাকাঘুরে, মিরপুর-১, ১০, ১২, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়া, কালশী, ইসিবি চত্ত্বরের রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে এক প্রকার নদীতে পরিণত হয়েছে। এ এলাকার প্রতিটি রাস্তায় ময়লা পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কোনো কোনো স্থানে পানির স্রোতও বইতে দেখা যায়।

 

পাইকপাড়ার বউবাজার এলাকায় কথা হয় মনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, সকালে মতিঝিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থামলে রাস্তার পানি কমার আশায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নামা বৃষ্টিতে প্রতিটি রাস্তায় হাঁটুর ওপর পানি জমে। ফলে বাসা থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি। এমন দুর্ভোগ এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি মানুষেরই।

যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, কলেজ ছুটি শেষে বাসায় ফিরতে উত্তর যাত্রাবাড়ীর রাস্তায় জমে থাকা ময়লা পানিতে ভিজতে হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা সংলগ্ন যাত্রাবাড়ী পার্কের সামনের এ রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে একাকার হয়ে যায় ড্রেনের পানি। ফলে বৃষ্টির সময় বাধ্য হয়েই ড্রেনের পানি গায়ে মাখতে হয়।