তবুও তিনি ডাক্তার!




তবুও তিনি ডাক্তার!

স্টার বাংলা সাভার: সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার ‘ডেন্টিস্ট’ মাসুম বিল্লাহ বছর পাঁচেক আগে বরিশাল ডেন্টাল কেয়ার নামে একটি চেম্বার খুলে বসেন। তিনিই এখানকার একমাত্র চিকিৎসক। রোগীদের আকৃষ্ট করতে সুজ্জিত চেম্বার ছাড়াও আকর্ষণীয় নেমপ্লেট ও সাইনবোর্ড রয়েছে চেম্বারের সামনে। অথচ দন্ত চিকিৎসক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিগ্রি তো দূরের কথা, স্কুলের গণ্ডিই পার হতে পারেননি মাসুম বিল্লাহ। শুধু নামে নয়, প্যাড ও ভিজিটিং কার্ডে নামের পাশে বসিয়েছেন ‘ডাক্তার’। দন্ত চিকিৎসক হয়েই খ্যান্ত দেননি তিনি একইসঙ্গে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এই ভুয়া ডাক্তারের তার ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সুস্থ হওয়ার তো দূরের কথা রোগীদের আরও বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,আট বছর আগে এক দাঁতের চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন মাসুম বিল্লাহ। বেশ কিছু দিন সেখানে কাজ করার পর নিজেই একটি চেম্বার খুলে বসেন। চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি চেম্বারে রাখায় রোগীরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কোনও ডিগ্রি নেই তারপরও নিজের নামের পাশে বসিয়েছেন ডাক্তার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক নিকট আত্মীয় বলেন, ‘আমার মামা তেমন পড়াশুনা করেনি। এমনকি স্কুলের গণ্ডিও পেরুতে পারেনি। বরিশাল থেকে ঢাকার সাভারে এসে স্থানীয় একটি ডেন্টাল চেম্বারে চাকরি নেয়। এর কিছু দিন পরই সে নিজেই চেম্বার খুলে বসেন।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাসুম বিল্লাহ নিজেই তার চেম্বারে আসা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। প্রতিটি রোগীর কাছ থেকে ফি নিচ্ছেন ৩০০ টাকা। চিকিৎসা শেষে নিজের প্যাডে লিখে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশনও।

শাহীবাগ মহল্লার বাবু নামের এক দোকানদার বলেন, কিছুদিন আগে তার স্ত্রী সাথী বেগম কানে কম শুনতে পাচ্ছিলেন। পরামর্শের জন্য স্ত্রীকে নিয়ে বরিশাল ডেন্টাল কেয়ারে গেলে মাসুম বিল্লাহ নিজেই নাক,কান ও গলা বিশেষঞ্জ বলে দাবি করেন। পরে মেশিনের সাহায্যে তার স্ত্রীর কানে বাতাস দিয়ে পরিষ্কারের করেন। এতে তার স্ত্রী আগের চেয়ে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

বাবুর অভিযোগ, ‘মাসুম বিল্লাহ একজন ভুয়া ডাক্তার। আমার কাছ থেকে ফিসহ ১৩শ’ টাকা নিয়েছেন। অথচ তার চিকিৎসার জন্য আমার স্ত্রী কানে আরও সমস্য দেখা দিয়েছে।’

একই অভিযোগ করেছেন শাহীবাগ মহল্লার মনির খান। তিনি বলেন,দুই বছর আগে দাঁতের ব্যথা নিয়ে মাসুম বিল্লাহর চেম্বারে যান। এরপর তার মুখের ভেতরে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই প্রচণ্ড পরিমাণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অন্য একটি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

আলভী ও সুজন নামের দুই যুবক বলেন,দেড় মাস আগে তাদের দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে বরিশাল ডেন্টাল কেয়ারে যাওয়ার পর মাসুম বিল্লাহ চিকিৎসা দেন। এতে সুস্থ  হওয়া তো দূরের কথা আরও ভোগান্তি বাড়ে তাদের।

তারা অভিযোগ করে বলেন,বরিশাল ডেন্টল কেয়ারে আসা বেশিরভাগ রোগী পোশাক শ্রমিক। এ কারণেই তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই ভুয়া চিকিৎসা ভুল সেবা দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে ‘ডাক্তার’ মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসা করছেন। তার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিএমডিসির অনুমদোনের আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, নেই। তবে তিনি নিজেকে একজন ডেন্টিস্ট দাবি করলেও কোনও সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকতা আমজাদুল হক বলেন, তিনি বরিশাল ডেন্টাল কেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে খোঁজও নেওয়া হচ্ছে। ডিগ্রি ছাড়াই ডেন্টিস্ট হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে থাকলে অভিযান চালিয়ে তার ডেন্টাল কেয়ার সিলগালা ও জরিমানা করা হবে।